Tuesday, June 26, 2018

বিদেশি ফল এভোকাডো চাষে উদ্যোগ




বিদেশি ফল এভোকাডো বাংলাদেশে চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অত্যন্ত পুষ্টিকর অর্থকরি এবং সুস্বাদু বিদেশি এই ফল বাংলাদেশের জলবায়ুতে ভাল হবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদরা। ইতোমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বান্দরবন, মাগুরা, নারায়নগঞ্জ, উদ্যান গবেষণা কেন্দ্র, গাজীপুর, হাটহাজারী, পার্বত্য এলাকায় এর চাষ শুরু হয়েছে। অনেক সৌখিন চাষী তাদের বাড়িতে সীমিত আকারে চাষ করছেন এই ফল।
পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, সম্ভাবনাময় বিদেশি এই ফলটি বাংলাদেশে স্বার্থকভাবে বাংলাদেশে চাষ করা যাবে। বিভিন্ন ফলের মধ্যে এভোকাডো সবচেয়ে বেশি পুষ্টিকর ফল হিসাবে বিবেচিত। ফলটির আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে শর্করার পরিমাণ খুবই কম, তেলের পরিমাণ বেশি অথচ খারাপ কলেস্টেরল নেই। খেতে অনেকটা ডিমের কুসুম এবং মাখনের স্বাদ পাওয়া যায় বলে অনেকে একে মাখন ফল বলে থাকেন। সারাদেশে সম্প্রসারণ করা গেলে বাংলাদেশের পুষ্টি সমস্যা সমাধানে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবে এই ফল বলে আশ করা যায়। ফলটির আদি নিবাস মধ্য আমেরিকা এবং মেক্সিকো। উনিশ শতকের শুরুতে ব্যাঙ্গালোরে বসবাসকারী আমিরিকান মিশনারীরা ভারতে প্রথম এভোকাডো চাষ করেন। বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকা, পেরু, জামাইকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, স্পেন, ক্যালিফেনিয়া, ফিলিপাইন, ইসরাইল, মালেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, ভারত এবং বাংলাদেশসহ উষ্ণ এবং অউষ্ণ মন্ডলের অনেক দেশেই এর চাষ হচ্ছে। সৌভাগের বিষয় যে, এ ফলগুলোর বেশ কিছু জাত বাংলাদেশের জলবায়ুতে সাফল্যের সঙ্গে জন্মানো সম্ভব। বাংলাদেশ ৮০’র দশকে এভোকাডো চাষের দিকে নজর দিলেও তেমন অগ্রগতি হয়নি। তবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টার এবং কৃষি সম্প্রসারণবিদদের আগ্রহে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প এবং সমন্বতি মানসম্মত উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের সহায়তায় বাংলাদেশে এর চাষাবাদ সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


এ ফল আকারে ছোট, অনধিক ২৫০ গ্রাম। ফলের ত্বক পাতলা ও মসৃন, বীজ বড় এবং সহজেই শাঁস থেকে আলাদা করা যায়। পার্সিয়া গনের অন্তর্ভূক্ত এভোকাডোর প্রায় ১৫০টি প্রজাতি রয়েছে।
গবেষকদের মতে যেসব স্থানে মেহগনি গাছ জন্মে সেসব স্থানে এভোকাডো চাষ সম্ভব। তবে এভোকাডো জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। বীজ থেকে উৎপাদিত চারা ৫-৬ বছরে এবং কলমের গাছ ৩-৪ বছরে ফলন দেয়। রঙ্গিন জাতের এভোকাডো ফল পাকলে পার্পল থেকে হালকা মেরুন বর্ণ ধারণ করে। পক্ষান্তরে সবুজ জাতের ফল সবুজাভ হলুদ বর্ণ ধারণ করে। বীজের ত্বক হলুদাভ সাদা থেকে কালো বাদামী বর্ণ ধারণ করলে বুঝতে হবে ফলগুলো সংগ্রহ উপযোগী হয়েছে। পরিপক্ক ফল সংগ্রহের ৬-১০ দিন পর ফল নরম হয় এবং পাকে। সাধারণত শীতের শেষে গাছে ফুল আসে এবং বর্ষার শেষে ফল পাকে। পাকা ফল বহুদিন পর্যন্ত গাছে রেখে দেয়া যায়, সহজে ঝরে পড়ে না। গাছে থাকা অবস্থায় ফল পাকে না অর্থাৎ গাছ থেকে সংগ্রহের পর ফল পাকে ও নরম হয়। জাত ভেদে গাছ প্রতি ১০০-৫০০ টি ফল হতে পারে।

No comments:

Post a Comment